হিমাচল প্রদেশে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত একটি ‘ত্রিশূল দীক্ষা’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ৭ মার্চ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বহু মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের হাতে ত্রিশূল তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের দিয়ে হিন্দু ধর্ম, দেশ এবং গরু রক্ষার শপথ করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই কর্মসূচির আয়োজক ছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজ্রং দল। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া পোশাক পরা বিপুল সংখ্যক মানুষ একটি হলে একত্রিত হয়ে ত্রিশূল হাতে স্লোগান দিচ্ছেন।
তবে এই অনুষ্ঠান নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, শপথ নেওয়ার সময় কিছু বক্তব্য ও স্লোগানে ‘জিহাদ’ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে।
এদিকে ২০২৫ সালে প্রকাশিত ইন্ডিয়া হেট ল্যাব-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা বাড়ছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২১টি রাজ্যে অন্তত ১,৩১৮টি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনি পদক্ষেপ দেখা যায় না। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এবং ২০২৫ জুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে এমন অনুষ্ঠান বাড়তে শুরু করেছে। হিমাচল প্রদেশের পাশাপাশি পাঞ্জাব, দিল্লি, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশেও একই ধরনের শপথ গ্রহণের কর্মসূচি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলায়ও একটি ত্রিশূল দীক্ষা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের ত্রিশূল ধারণ করে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার শপথ নেওয়ার কথা শোনা যায়।
আয়োজক সংগঠনগুলির দাবি, এসব কর্মসূচি ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এই ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে।


