সম্প্রীতি ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘IRIS Dena’ ডুবে যায় বলে জানা যায়। এই ঘটনার পর ভারতের অবস্থান ও কেন্দ্র সরকারের নীরবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়, যখন ওই ইরানি যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি ভারতের এক নৌবাহিনীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষ করে জাহাজটি নিজের দেশে ফিরছিল। সেই সময় শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় জাহাজটি ডুবে যায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের অনেকেই। কারণ, ভারত বহুবার বলেছে যে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সমুদ্রপথের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ্যে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সামনে এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন সামরিক হামলা যদি ভারতের প্রভাব বলয়ের কাছাকাছি এলাকায় ঘটে, তাহলে তার কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে ভারত কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে, সেটাও এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েক বছরে ভারত একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সঙ্গেও বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বজায় রেখেছে। ফলে এই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতকে খুব সতর্ক অবস্থান নিতে হয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির হত্যার অভিযোগ উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সেই ঘটনাতেও ভারতের পক্ষ থেকে সরাসরি নিন্দা শোনা যায়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক কাজ করেন ও বসবাস করেন। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়লে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, শুধু এই কারণ দেখিয়ে সব ক্ষেত্রে নীরব থাকা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।


