বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পাঠানো শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার পার্বতীপুর সীমান্ত দিয়ে প্রথম ধাপে প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমান।
তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর কথা। বর্তমানে যে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে, তা সেই চুক্তিরই একটি অংশ। এই ব্যবস্থার ফলে নিয়মিত ভাবে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার।
রেজানুর রহমান আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৯০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গলবার যে চালানটি আসেছে তা ৫ হাজার টন। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি ডিজেলও ধাপে ধাপে দেশে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
এদিকে দেশে জ্বালানির মজুত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বাংলাদেশ সরকার। জ্বালানি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করার উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে জ্বালানি মজুত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যেই গাড়ির ধরন অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, কিছু পেট্রোল পাম্প সেই নিয়ম মানছে না। নির্ধারিত সীমার বেশি জ্বালানি বিক্রি করা, অতিরিক্ত মজুত রাখা এবং কালোবাজারে বিক্রি করার মতো ঘটনাও সামনে আসছে। এই অনিয়ম বন্ধ করতে প্রশাসন কড়া নজরদারি শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট চালিয়ে পেট্রোল পাম্পগুলিতে তল্লাশি করা হচ্ছে। ঢাকার কয়েকটি পাম্পেও সম্প্রতি অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, তেজগাঁওয়ের সিটি ফিলিং স্টেশনে গতকাল থেকে জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। নতুন জ্বালানি পৌঁছলে আবার পরিষেবা শুরু হবে। অন্যদিকে একই এলাকার ক্লিন ফুয়েল নামে একটি পাম্প সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্বাভাবিকভাবে পরিষেবা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভারত থেকে নিয়মিত ডিজেল আসা শুরু হলে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে এবং বাজারে অস্থিরতা কমবে।


