মহারাষ্ট্রে গোমাংস রপ্তানি নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিখিল গড়করি -র পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে একটি মাংস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি অনুসন্ধানী পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ে নথিভুক্ত রেম্বাল অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুডস নামে একটি কোম্পানি এমন একটি বড় ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের অংশ, যার সঙ্গে গড়কড়ি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পর্ক থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগপুরের সিয়ান অ্যাগ্রোইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলে দাবি করা হয়েছে। এই সংস্থার নেতৃত্বে রয়েছেন গড়কড়ির ছেলে নিখিল গড়করি। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিনিয়োগ, ঋণ ও শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে এই সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে নীতিন গড়কড়ি নিজে ওই মাংস রপ্তানিকারক কোম্পানির মালিক—এমন সরাসরি অভিযোগ করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের মার্চ মাসে। মহারাষ্ট্রের লোনাভালার কাছে পুনে–মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশ একটি ট্রাক আটক করে। ট্রাকটিতে প্রায় ১,৪০০ কার্টন প্রক্রিয়াজাত মাংস ছিল, যার মোট ওজন প্রায় ২৮ টন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এই চালানের বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা হতে পারে।
পুলিশ জানায়, ট্রাকের চালক ও সহকারীর কাছে মাংস পরিবহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। তারা দাবি করেন, মুম্বই বা হায়দরাবাদে থাকা রেহান আহমেদ কুরেশি নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে এই পণ্য বহন করা হচ্ছিল।
পরদিন রেম্বাল অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুডস আদালতে জানায়, আটক হওয়া মাংস গরুর নয়, বরং মহিষের মাংস, যা মহারাষ্ট্রে ব্যবসার জন্য বৈধ। সংস্থার দাবি, উত্তর প্রদেশের আলিগড় থেকে মাংসটি কেনা হয়েছিল এবং হায়দরাবাদে প্রক্রিয়াজাত করার পর মুম্বই হয়ে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
তবে আদালত নথিপত্র পরীক্ষা করে কয়েকটি অসঙ্গতি লক্ষ্য করে। পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি, স্বাস্থ্য সনদ এবং ই-ওয়ে বিলের তথ্যের মধ্যে মিল পাওয়া যায়নি। ফলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কাগজপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাংসটি সংরক্ষণে রাখার নির্দেশ দেয়। এই ঘটনাকে ঘিরেই এখন নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


