পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক।ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন সংঘাতের আবহে ইরাকের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে ১১ মার্চ। Safesea Vishnu নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয় বাসরা উপকূলের কাছে। জাহাজটি মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী এবং সে সময় খোর আল জুবাইর পোর্ট -এর বাইরে অন্য একটি জাহাজে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল বলে জানা গেছে।
হামলার পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। কোথাও বলা হয়েছে আত্মঘাতী নৌকা ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও বলা হয়েছে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন নৌকা কিংবা জলের নিচে চালিত ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। হামলার পর মুহূর্তের মধ্যে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই ঘটনায় জাহাজের এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। তবে বাকি ক্রুদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মোট ৩৮ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
১২ মার্চ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় এম্ব্যাসি অফ ইন্ডিয়া,এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ইরাকি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগেই জানিয়েছিল, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক জাহাজ হামলা গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে ইরাকের তেলবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরাকি কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কিছু তেলবন্দর ও টার্মিনালের কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই ধরনের হামলা যদি চলতেই থাকে, তাহলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।


