মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার একটি গ্রামে ইফতার করতে গিয়ে মুসলিমদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার আস্করওয়াড়ি গ্রাম এলাকায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে জড়ো হওয়া মুসলিম যুবকদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কোন্ধওয়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ সাইয়্যদ নামে এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে সাসওয়াদ পুলিশ স্টেশন-এ একটি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে।
অভিযোগে ফিরোজ সাইয়্যদ জানান, তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু শুক্রবার বিকেলে দু’চাকা ও চারচাকা গাড়িতে করে আস্করওয়াড়ি গ্রামের একটি হ্রদের ধারে যান। সেখানে তারা ফল ও খাবার নিয়ে ইফতার করার জন্য জড়ো হয়েছিলেন। সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছ’টার সময় তারা রোজা ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এফআইআর অনুযায়ী, সেই সময় আচমকা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে প্রায় ১০০ জনেরও বেশি লোক সেখানে পৌঁছে যায়। তাদের মধ্যে অনেকের হাতেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। তারা প্রথমে সেখানে উপস্থিত মুসলিম যুবকদের নানা প্রশ্ন করতে শুরু করে এবং পরে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করে। কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হামলাকারীরা মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা মুসলিম যুবকদের মাথায় থাকা টুপি খুলে ফেলতে বলে এবং এরপর লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় অস্ত্র আইন-এর আওতাতেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাসওয়াদ থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর কুমার কদম জানিয়েছেন, ঘটনার পর কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে বলেও তিনি জানান।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যেখানে ইফতার করার জন্য ওই যুবকেরা জড়ো হয়েছিলেন, সেটি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থান নয়। স্থানীয় কিছু গ্রামবাসীর দাবি, আগের বছরগুলিতে সেখানে ইফতার করার ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এদিকে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া-র নেতা আজার তাম্বোলি অভিযোগ করেছেন, এই হামলা পরিকল্পিতভাবে কিছু হিন্দুত্ববাদী কর্মী চালিয়েছে। তার দাবি, এই ঘটনায় পাঁচ থেকে ছয়জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনার পরে শুক্রবার গভীর রাতে কোন্ধওয়া এলাকার বহু বাসিন্দা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সাসওয়াদ থানার সামনে জড়ো হন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে পুনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের উপর হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, বিশেষ করে রমজান মাস চলাকালীন এই ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে জেলারই এক জায়গায় মহিষ পরিবহণ করছিলেন এমন এক মুসলিম ট্রাক চালককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় একদল স্বঘোষিত গোরক্ষক তাকে থামিয়ে মারধর করে এবং ধর্মীয় কটূক্তি করে বলে অভিযোগ। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।


