ভারতের পাঁচটি অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই সূচি প্রকাশ করেন। ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে।
এবারের ভোট হবে চারটি রাজ্য— পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাডু, অসম— এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে। এর মধ্যে অসম, কেরালা ও পুদুচেরিতে এক দফাতেই ভোট গ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাডুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। তবে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হবে দুই দফায়— ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। সব কটি জায়গার ভোটের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি বিধানসভা মিলিয়ে মোট ৮২৪টি আসনে ভোট হবে। প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লক্ষ, তামিলনাডুতে প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ, কেরালায় প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ, অসমে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ এবং পুদুচেরিতে প্রায় ৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ভোটার রয়েছেন। মোট ২ লক্ষ ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এই বিশাল নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী অসম, কেরালা ও পুদুচেরিতে ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ১৬ মার্চ এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৩ মার্চ। তামিলনাডুর ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে ৩০ মার্চ এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি ৩০ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ২ এপ্রিল প্রকাশ করা হবে।
এবারের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিছু রাজ্যে বিশেষভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ করা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে অনেক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা যাচাইয়ের জন্য ঝুলে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতেও মামলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য কড়া নজরদারি রাখা হবে। ভোটের সময় হিংসা, ভয় দেখানো বা ভোটারদের প্রভাবিত করার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলেও কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের নির্বাচনে কয়েকটি রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক দফায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু এবার তুলনামূলকভাবে কম সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের আশা, সব পক্ষের সহযোগিতায় ভোট উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হবে।


