মধ্যপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নকল করে ভিডিও বানানোর অভিযোগে এক সরকারি স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকটির নাম সাকেত পুরোহিত বলে জানা গিয়েছে। তিনি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরি জেলার পোহরি উন্নয়ন ব্লকের একটি সরকারি স্কুলে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তার একটি ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠস্বর ও ভঙ্গি নকল করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়া নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায়।
ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর পিচোর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক প্রীতম লোধি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি শিবপুরি জেলার জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা শিক্ষা দপ্তর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই শিক্ষা দপ্তর সাকেত পুরোহিতকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেয়। প্রশাসনের তরফে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষক সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যা অশান্তি বা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। আদেশে আরও বলা হয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য সিভিল সার্ভিস নিয়ম, ১৯৬৬–এর গুরুতর লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাকে বদরবাস ব্লক শিক্ষা আধিকারিকের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাকেত পুরোহিত। তার দাবি, প্রশাসন তার বক্তব্য না শুনেই একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাকে আগে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি বা নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতেই গৃহস্থালির এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহণে সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী মহলের সমালোচনাও বাড়ছে। সমালোচকদের দাবি, সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা সত্ত্বেও সরকার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়নি। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য ও কটাক্ষ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই পুরনো ভিডিও তুলে ধরে প্রশ্ন তুলছেন এবং গ্যাস সরবরাহে দেরি ও সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।


