২০২৬ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। একই দেশে ২০২৮ সালে আয়োজন করা হবে অলিম্পিক গেমসও, যার আসর বসবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। বিশ্বের এই দুই বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ঘিরে এখন থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে এরই মধ্যে সামনে এসেছে এক অদ্ভুত সম্ভাবনা—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো এই দুই আন্তর্জাতিক আসরে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে নাও পারেন।এই সম্ভাবনার পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে ডোপিং বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড এন্টি ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ। সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে খেলাধুলায় নিষিদ্ধ মাদক ব্যবহার ঠেকাতে কাজ করে। তাদের তহবিলের একটি বড় অংশ আসে বিভিন্ন দেশের অনুদান থেকে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান অর্থদাতা।তবে কয়েক বছর ধরে এই আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়াডা নাকি কিছু বিষয়ে পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে, বিশেষ করে চীনের ক্ষেত্রে। এই অভিযোগের জেরে ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত বার্ষিক অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেয়। ফলে সংস্থাটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।এই পরিস্থিতিতে ওয়াডা কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশ যদি নির্ধারিত অর্থ বা দায়িত্ব পালন না করে, তবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের কিছু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হতে পারে। সেই কারণেই আলোচনা চলছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের,এমনকি প্রেসিডেন্টকেও ভবিষ্যতের বড় ক্রীড়া আসরগুলোতে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।যদি এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তাহলে তা হবে ক্রীড়া ও রাজনীতির সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বিরল ঘটনা। যদিও এখনও বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি, তবুও আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে এই সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Popular Categories

