পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার ফের তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন নির্বাচন কমিশন এবং ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা চলছে। একটি ফেসবুক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবে না। বরং তারা এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তিনি লেখেন, বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াবে।আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে আচমকা বহু উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোট ঘোষণার আগেই ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ আধিকারিককে সরানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপাররা। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, নিরপেক্ষ থাকার কথা যেসব প্রতিষ্ঠানের, সেগুলিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সংবিধানের মূল ভাবনাকেই আঘাত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৬৩ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে এবং প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের অবস্থান এখনও অনিশ্চিত রয়েছে।এছাড়াও, এখনও সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এই কাজ সম্পূর্ণ করা হয়নি। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যেমন আইবি, এসটিএফ ও সিআইডি-র আধিকারিকদেরও সরানো হচ্ছে, যা প্রশাসনকে দুর্বল করার পরিকল্পনার অংশ বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।বিজেপিকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বাংলাকে ঘিরে এত চাপ তৈরি করা হচ্ছে? স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন সাধারণ মানুষকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়াতে হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গণতান্ত্রিকভাবে মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এখন অন্য পথে রাজ্য দখলের চেষ্টা চলছে। ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহারের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।এর আগে মুখ্যমন্ত্রী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে এই ব্যাপক বদলি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক এবং বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধও জানান। সবশেষে, রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সৎভাবে কাজ করার জন্য যাঁদের লক্ষ্য করা হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে সরকার রয়েছে।
‘ভোটের আগে বাংলায় অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে’, অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে চক্রান্তের ইঙ্গিত
Popular Categories


