এক সপ্তাহের মধ্যে একের পর এক অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেও বিভ্রান্তি কাটার বদলে আরও বাড়ছে। শনিবার রাতে তৃতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কার নাম থাকল, কার নাম বাদ গেল— সেই স্পষ্ট ছবি এখনও অধরা বলেই অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়ই প্রায় ৬০ লক্ষ নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেইসব নাম যাচাই করতে রাজ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকেও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে দাবি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে ‘নাম বাদ’ প্রসঙ্গে। অনেকেই জানতেই পারছেন না তাঁদের নাম তালিকায় আছে কি না। ফলে আপিল করার সুযোগ থাকলেও, বাস্তবে কীভাবে এগোবেন তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতরও তীব্র হয়েছে। পুরুলিয়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা আধিকারিকরা নির্বিচারে নাম বাদ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, মানুষ এই অন্যায়ের জবাব দেবেন ভোটের মাধ্যমেই।
অন্যদিকে, কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলেন। তবে বিদেশি ভোটার সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাছে নেই বলেই জানান। এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে বারবার তালিকা প্রকাশ হলেও স্বচ্ছতার অভাব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটাতে দ্রুত পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জোরদার হচ্ছে।


