গুজরাতে সম্প্রতি বিধানসভায় একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যাকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি বলা হচ্ছে। তবে এই বিলটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘মুসলিম হিত রক্ষক সমিতি’। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত আইন সংবিধানের মূল ভাবনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না বলে তাদের মনে হচ্ছে। বর্তমানে বিলটি রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
সমিতির মতে, সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে এই আইনের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে, একটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো আইনকে আদৌ ‘অভিন্ন’ বলা যায় কি না। কারণ, একটি প্রকৃত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হলে তা সারা দেশের সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এছাড়া, এই আইনে কিছু বিশেষ সম্প্রদায়কে বাইরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে তপশিলি উপজাতি এবং কিছু ঐতিহ্যগত অধিকারভুক্ত গোষ্ঠী এই আইনের আওতায় পড়ছে না। ফলে এই আইন সকলের জন্য সমান নয় বলে মত দিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতিগুলি আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা যায় না। তাই এই ধরনের আইন তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। সমিতি মনে করছে, এই বিলটি মৌলিক অধিকারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।
তারা অতীতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং মতামতের কথাও উল্লেখ করেছে। যেমন, ড. বি আর আম্বেদকর একসময় বলেছিলেন, মানুষের সম্মতি ছাড়া এমন আইন চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে, পূর্বে আইন কমিশনও জানিয়েছিল যে এই মুহূর্তে ইউসিসি চালু করা খুব প্রয়োজনীয় নয়।
সব মিলিয়ে, গুজরাতের এই নতুন আইন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্যপাল এই বিলটি অনুমোদন দেন কি না এবং ভবিষ্যতে এর কী প্রভাব পড়ে।


