২০২০ সালে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক অশান্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নয়জন অভিযুক্তকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করল দিল্লির একটি আদালত। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জানায়, এই মামলায় আনা অভিযোগগুলি প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আনতে পারেনি পুলিশ এবং অভিযোগকারী পক্ষ।
এই মামলাটি দায়ের হয়েছিল দয়ালপুর থানায়। ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ ছিল চাঁদবাগ এলাকা। অভিযোগ ছিল, একটি ইনোভা ক্রিস্টা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগানো হয়েছে, রাস্তার হকারদের ঠেলাগাড়ি লুট করা হয়েছে এবং ‘রয়্যাল মোটরস’ নামে একটি দোকানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তবে আদালতের মতে, এই সব অভিযোগের পক্ষে যে প্রমাণ হাজির করা হয়েছিল, তা যথেষ্ট দৃঢ় নয়।
অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রবীণ সিং তাঁর রায়ে স্পষ্টভাবে বলেন, তদন্তের সময় যে সাক্ষীদের সামনে আনা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তাঁরা ঘটনার জায়গা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেননি। ফলে তাঁদের বয়ানকে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য বলা যাচ্ছে না।
আদালত আরও মন্তব্য করে, তদন্তকারী সংস্থা এমন কিছু সাক্ষীকে সামনে এনেছে, যাঁদের বক্তব্য নির্ভরযোগ্য নয়। এতে সন্দেহ তৈরি হয় যে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের বদলে হয়তো নির্দোষ মানুষদেরও অভিযুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। বিচারকের মতে, শুধুমাত্র সাধারণ ও অস্পষ্ট বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়।
এই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন শাহ আলম, রশিদ সাইফি, মোহাম্মদ শাদাব, হাবিব, ইরফান, সুহাইল, সেলিম ওরফে আশু, ইরশাদ এবং আজহার ওরফে সোনু। আদালত জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করা যায়নি। তাই আইন অনুযায়ী তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হচ্ছে।
এই রায়ের পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত প্রক্রিয়ার মান এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় সঠিক তদন্ত এবং নির্ভুল প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নাহলে বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে।


