নিউটাউন ও রাজারহাটের মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের আগে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ। নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বহুদিন ধরে যে আশায় ছিলেন এখানকার মানুষ, তা এখন প্রশ্নের মুখে। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) ঘিরে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এই অঞ্চলে।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ভোটের আগে এই এলাকাতেই এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের এক প্রভাবশালী মুখ নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং সেখানেই নাগরিকত্বের বিষয়ে আশ্বাস দেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার মতুয়াদের পাশে আছে এবং তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে। এই বার্তা এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই তা বিশ্বাস করেছিলেন।
কিন্তু কয়েক বছর কাটতে না কাটতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু পরিবার এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায়। অনেকে বলছেন, যাদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাদেরই নাম তালিকা থেকে মুছে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৩ লক্ষের বেশি ভোটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের। ফলে এই ভোটব্যাঙ্ক সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের একাংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকলেও এবার সেই সমীকরণ বদলাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নবীন বিশ্বাস, যিনি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের অন্যতম নেতা, জানিয়েছেন যে এই পরিস্থিতিতে মানুষ ক্ষুব্ধ। তাঁর কথায়, অনেকেই নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, হাজার হাজার মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত।
অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, তারা ক্ষমতায় এলে সমস্যার সমাধান করা হবে এবং যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। দলের প্রার্থী পিযুষ কানোজিয়া আশ্বাস দিয়েছেন যে নাগরিকত্বের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিভাজনের রাজনীতির কারণে। দলের নেতা তাপস চ্যাটার্জি বলেন, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটের আগে নিউটাউন-রাজারহাট অঞ্চলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ, দুশ্চিন্তা এবং অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। নাগরিকত্বের প্রশ্ন এখন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।


