মধ্যপ্রদেশের রায়সেন জেলার দুই মুসলিম যুবককে সমাজ মাধ্যমে একটি রিল পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়বস্তু দেখে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনও স্পষ্ট উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দুই যুবকের নাম ওয়াসিম খান এবং ইউসুফ মেহাফুজ। গত ৮ মার্চ তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ ছিল, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে তারা ইনস্টাগ্রামে একটি রিল পোস্ট করেছিলেন যেখানে ইরানের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দা সেই ভিডিও দেখে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই রিলে দুই যুবককে বলতে শোনা যায়, “আমরা একসঙ্গে ইরানকে সমর্থন করব।” পাশাপাশি তারা আরও বলেন, “ভারতের মুসলমানরা গতকালও ভয় পায়নি, আজও ভয় পায় না।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, তারা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। এরপরই তাদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়।
তবে মামলাটি মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে ওঠার পর বিচারপতি রামকুমার চৌবে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখেন। গত ৯ এপ্রিল শুনানির সময় তিনি বলেন, ভিডিওটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে কোথাও এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে চেয়েছিলেন।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে জানায়, ওই রিলটি মূলত একটি বিদেশি দেশের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে করা প্রতিবাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছে। সেটিকে ধর্ম, জাতি বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
এছাড়াও বিচারপতি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ যথেষ্টভাবে যাচাই না করেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট উপাদান ছিল কি না, তা নিয়েও আদালত সংশয় প্রকাশ করে।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত এই মামলাটিকে জামিনযোগ্য বলে মনে করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ওয়াসিম খান এবং ইউসুফ মেহাফুজকে ৫০ হাজার টাকা করে ব্যক্তিগত বন্ড এবং একই অঙ্কের একজন জামিনদারের শর্তে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের আগে আরও সতর্কতা প্রয়োজন।


