কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না। সরকারের মতে, এই ধরনের তথ্য ব্যক্তিগত বিষয়, তাই সাধারণের সামনে তা আনা ঠিক নয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না এবং তিনি শাসক দলের পক্ষেই কাজ করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদে তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবিও তোলা হয়েছিল। যদিও গত ৬ এপ্রিল লোকসভার স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দেন।
এরই মধ্যে তাঁর সম্পত্তির তথ্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর সম্পত্তির বিবরণ সরকারের কাছে জমা দিয়েছিলেন। সেই তথ্য প্রকাশের জন্য তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করা হলে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক অনিল বাজপেয়ী জানান, এই তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। তিনি আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে ছাড়ের কথাও উল্লেখ করেন।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন আরটিআই আবেদনকারী সাকেত গোখলে। তাঁর বক্তব্য, আগে নিয়মিতভাবে এই ধরনের তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতো, যাতে সাধারণ মানুষ জানতে পারেন। কিন্তু এখন হঠাৎ করে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক নয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যে তথ্য এতদিন প্রকাশ্যে ছিল, তা হঠাৎ কেন গোপন রাখা হচ্ছে? যখন অন্যান্য সরকারি আধিকারিক এবং বিচারপতিদের সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ করা হয়, তখন এক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন? এমনকি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদেরও সম্পত্তির তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। তাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রে এই ব্যতিক্রম অনেকের কাছেই সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।


