উত্তরপ্রদেশের অগ্রা থেকে গুজরাটের আহমেদাবাদ—এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় মুসলিম হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি এবং হয়রানির অভিযোগ সামনে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও সংবাদে এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
আগ্রার কয়েকটি এলাকায় দেখা গিয়েছে, রাস্তায় ব্যবসা করা হকারদের থামিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নাম ও ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। অনেকের দাবি, এভাবে লক্ষ্য করে ব্যবসা করতে না দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন রোজগারে প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, আহমদাবাদের বাপুনগর এলাকায় এক খাদ্য বিক্রেতার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু সংগঠনের সদস্যরা ওই বিক্রেতাকে দোকান গুটিয়ে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেন বলে জানা যায়। এমনও অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে যে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই ওই এলাকায় ব্যবসা করতে পারবেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এছাড়া আগ্রা – আলীগড় হাইওয়ে এক প্রবীণ চা বিক্রেতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তাকে তার দোকানের নাম পরিবর্তন করতে বলা হচ্ছে এবং সেই নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, বহু ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রশাসন তৎপর ভূমিকা নিচ্ছে না, ফলে এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে। তবে আগ্রার একটি ঘটনার ক্ষেত্রে ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে বলে খবর।
সমাজকর্মীরা বলছেন, ছোট ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন রোজগারের আশায় ঘর থেকে বের হন। ধর্মের ভিত্তিতে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হলে তা শুধু বৈষম্যই নয়, তাদের জীবিকা নির্বাহের অধিকারেও আঘাত হানে। এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে না বাড়ে, তার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলেই মত তাঁদের।


