সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি হওয়ার পরও ভোটের আগে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটের প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত যদি কোনও ভোটার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নিজের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তাহলে তিনি ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটের আগে এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা হয়েছিল। সেই সময়সীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গেলেও, কতজন ভোটারের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে বা আদৌ কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। ট্রাইবুনাল বা নির্বাচন কমিশন—দু’পক্ষের তরফেই এই বিষয়ে নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ আদালত আবারও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। ট্রাইবুনাল কীভাবে কাজ করছে এবং আবেদনগুলি কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট চাওয়া হবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। পাশাপাশি, আধার কার্ড ও পাসপোর্টের মতো পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আদালত জানিয়েছিল, ট্রাইবুনালে কোনও আবেদন নিষ্পত্তি হলে সেই তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে। তারপর কমিশন যোগ্য ভোটারদের নাম ফের ভোটার তালিকায় যুক্ত করবে। এই ঘোষণার পর বহু মানুষ ট্রাইবুনালে ভিড় জমালেও, অভিযোগ উঠেছে যে অনেক ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের ভিতরে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এমনকি আইনজীবীরাও দপ্তরে প্রবেশ করতে পারেননি বলে দাবি উঠেছে।
যদিও জানা যাচ্ছে, কিছু জায়গায় একাধিক বেঞ্চে নিয়মিত কাজ চলছে, তবুও সেই কাজের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই। তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও, কীভাবে কাজ হবে বা কী নিয়মে আবেদনগুলি দেখা হবে, সেই বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক জানিয়েছেন, ট্রাইবুনালের কাজে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ট্রাইবুনাল থেকে যে তথ্য আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে বহু ‘ডিলিটেড’ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে।


