ওয়াশিংটন ও তেহরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। বুধবার তিনি এমন একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তাঁকে সানগ্লাস পরে হাতে আধুনিক অস্ত্রসহ দেখা যায়। সেই ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় সরাসরি ইরানকে সতর্ক করে তিনি জানান, দ্রুত অবস্থান না বদলালে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
কূটনৈতিক শালীনতার প্রচলিত নিয়মকে উপেক্ষা করে এ ধরনের বার্তা দেওয়ায় বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সংলাপ ও আলোচনার পথ ছেড়ে এভাবে হুমকির ভাষা ব্যবহার করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, এতে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মোটেই ভালো সংকেত নয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক একটি জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশের ভিতরে সমর্থন কমে যাওয়ায় তিনি কঠোর অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজেকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। উগ্র জাতীয়তাবাদের আশ্রয় নিয়ে জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের এই কৌশল নতুন নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।
এই ঘটনার পর ইরানের তরফেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরান সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনওরকম চাপ বা হুমকিতে ভয় পায় না এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং পরিস্থিতিকে অযথা উসকে দেয়।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে একটি বড় শক্তিধর দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে, পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে আরও সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


