Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

মোদী শাসনে ‘স্বাধীনতা’ হারাচ্ছে সংবাদমাধ্যম! প্রেস ফ্রিডম ইন্ডেক্স-এ ১৮০ দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৫৭

বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারস’–এর ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের বৃহৎ গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত ভারতের অবস্থান এবার আরও নীচের দিকে নেমে গিয়েছে।

এই বছরের সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান হয়েছে ১৫৭ নম্বরে। গতবারের তুলনায় কয়েক ধাপ পিছিয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে দেশে সংবাদমাধ্যমের কাজের পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে  নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাঁদের উপর আক্রমণ, হুমকি বা হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে। পাশাপাশি, বড় সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠছে বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া, শাসক দল  ভারতীয় জনতা পার্টি–এর সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে সংবাদ পরিবেশনে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যেসব সাংবাদিক সরকার-বিরোধী প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া খুবই কম দেখা যায়। তিনি সাধারণত বাছাই করা মাধ্যমেই কথা বলেন। অন্যদিকে, সমালোচনামূলক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কখনো আইনি ব্যবস্থা, কখনো সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এই সমস্যা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়েই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অনেক দেশেই পরিস্থিতি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সূচকে শীর্ষস্থানে রয়েছে নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ডেনমার্ক ও সুইডেন। অন্যদিকে তালিকার শেষদিকে রয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও এরিট্রিয়ার মতো দেশ। ভারতের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও এই তালিকায় ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

এছাড়া রিপোর্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন–এর ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories