নয়ডায় শ্রমিক আন্দোলনের মঞ্চে বক্তব্য রেখে জাতীয় সুরক্ষা আইনে (NSA) গ্রেফতার হওয়া দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর বয়সী ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীকে অবশেষে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিল এলাহবাদ হাইকোর্ট। অন্যায়ভাবে কারাবাস করানোর জন্য রাজ্য প্রশাসনকে ওই ছাত্রীকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত এপ্রিল মাসে। কাজের পরিবেশ পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে নয়ডার ৮০টিরও বেশি জায়গায় পথে নামেন প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সেখান থেকেই আকৃতিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করা হয়।
বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি আচল সাচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ মামলার বিচারে পুলিশি তদন্তের একাধিক আইনি গলদ তুলে ধরে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের পেশ করা অভিযোগের পুরোটাই কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। তাছাড়া, গ্রেফতারির পূর্বে প্রয়োজনীয় আইনি নোটিস না পাঠানো এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের সমর্থনে কোনো শক্তপোক্ত ভিডিও প্রমাণ জমা দিতে না পারায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঞ্চ।
ইতিমধ্যেই বিনা অপরাধে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় শ্রীঘরে কাটিয়ে ফেলেছেন ওই তরুণী। রাজ্য প্রশাসনের বাড়তি সময় চাওয়ার আর্জি খারিজ করে আদালত স্পষ্ট জানায়, এভাবে একজন ছাত্রীর মৌলিক অধিকার হরণ করা যায় না। ফলস্বরূপ, তাঁকে অবিলম্বে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এলাহবাদ হাইকোর্ট।


