Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

ভোট-পরবর্তী হিংসায় ‘শান্তির দূত’ RSS? তৃণমূলের প্রতি ‘নরমপন্থা’ অবলম্বন সংঘের!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এক ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে—যেখানে আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অভিযোগ-প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে, কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রতিও সহানুভূতিশীল অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে সঙ্ঘের কর্মীদের।সংগঠনের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাতে কোনও ধরনের সংঘর্ষ, দখলদারি বা লুটপাট না ঘটে, সেদিকে নজর রাখছেন তাঁদের স্বয়ংসেবকেরা। বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার খবর পেলেই তাঁরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। কোথাও কোনও সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে দাবি।আরএসএসের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য এখন রাজ্যে শান্তি বজায় রাখা। তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর অনেক সময়ই প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়। আমরা চাই না সেই পরিস্থিতি তৈরি হোক। আইন মেনে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক—এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।” তিনি আরও দাবি করেন, কোনও দলের কর্মী আক্রান্ত হলে, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও তাঁরা প্রস্তুত।এই প্রেক্ষিতে একটি ঘটনার কথাও উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, সল্টলেক এলাকায় একটি ক্লাব দখল নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেখানে অন্য দলের পতাকা লাগানো হয়েছে। পরে সঙ্ঘের এক নেতা নিজে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং ক্লাবটি আগের অবস্থায় ফেরানোর উদ্যোগ নেন। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।শুধু কলকাতা নয়, জেলার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার এক তৃণমূল নেতা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সঙ্ঘের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কৌশলগত পরিবর্তন, নাকি সাময়িক উদ্যোগ?অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকেও দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। তাঁদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে কেউ যেন হিংসার পথ না নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, কিছু জায়গায় তাঁদের দলকে বদনাম করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর বা দখলের চেষ্টা হয়েছে।দলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, “আমাদের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। অতীতে বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তবুও আমরা সংযম দেখিয়েছি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছি।” নির্বাচনের পর বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যেখানে বিরোধী শিবিরের সংগঠন হয়েও কিছু ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর অভিযোগ উঠছে আরএসএসের বিরুদ্ধে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories