বহুদিনের বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। ধার জেলার ভোজশালা চত্বরের বিতর্কিত অংশকে মন্দির হিসেবেই ঘোষণা করেছে আদালত। শুক্রবার বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্ল এবং বিচারপতি অলোক অবস্থী-র বেঞ্চ এই রায় দেয়। পাশাপাশি মুসলিম পক্ষকে অন্য স্থানে উপাসনার ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত প্রায় হাজার বছরের পুরনো ভোজশালা দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় বিতর্কের কেন্দ্রে। মুসলিম পক্ষের মতে এটি কামাল মওলানার দরগা ও মসজিদ, অন্যদিকে হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি—এটি রাজা ভোজ নির্মিত প্রাচীন সরস্বতী মন্দির।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এতদিন প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুদের পুজো এবং শুক্রবার মুসলিমদের নমাজ পড়ার অনুমতি ছিল। সপ্তাহের বাকি দিন সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার থাকলেও কোনও ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি দেওয়া হত না।
আদালতের নির্দেশে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) বিতর্কিত অংশে দীর্ঘ ৯৮ দিন ধরে ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ চালায়। প্রায় দুই হাজার পাতার রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়ে এএসআই জানায়, ঐ এলাকায় হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি এবং ঐতিহাসিক সূত্রে সেখানে রাজা ভোজের সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত সংশ্লিষ্ট অংশকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করে।
রায়ে জানানো হয়েছে, ভোজশালার ওই অংশের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে এএসআই-এর হাতে। পাশাপাশি লন্ডনের একটি জাদুঘর থেকে সরস্বতীর প্রতিমা ভারতে এনে ভোজশালায় স্থাপনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আবেদনগুলি বিবেচনা করতে পারে বলেও আদালত জানিয়েছে।
২০২২ সালে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মঙ্গলবার পুজো ও শুক্রবার নমাজের পৃথক ব্যবস্থার অবসান চেয়ে একচ্ছত্র হিন্দু উপাসনার দাবি জানায়। ২০২৪ সালে আদালত এএসআই-কে সমীক্ষার নির্দেশ দেয়।
যদিও মুসলিম পক্ষ এএসআই রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ তোলে এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে দীর্ঘ শুনানি চলে। সেই বহুল আলোচিত মামলাতেই অবশেষে রায় ঘোষণা করল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট।


