মধ্যপ্রদেশে এক তরুণীর রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ব্ল্যাকমেইলিং এবং লাগাতার অপমানের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই চরম পথ বেছে নিয়েছেন ওই তরুণী। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত যোগেশ রাওয়াত নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী গোয়ালিয়রে পিএইচডি করছিলেন। সেই সূত্রে এক বান্ধবীর দাদা যোগেশ রাওয়াতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। অভিযোগ, গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে যোগেশ ওই তরুণীকে একটি হোটেলে ডেকে পাঠায় এবং তাঁর পানীয়তে মাদক মিশিয়ে দেয়। তরুণী অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই অবস্থার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে রাখা হয়। জ্ঞান ফেরার পর তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর মাত্র দুদিন পরে, সেই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে আবারও একই হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার মাসখানেক পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা করাতে গিয়ে তরুণী জানতে পারেন যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা জানতে পেরেও অভিযুক্ত যুবকের মধ্যে কোনও অনুশোচনা ছিল না। উল্টে যুবকের দুই বোন, যাঁদের মধ্যে একজন ওই তরুণীরই বান্ধবী ছিলেন, তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে চরম অপমান করেন এবং হুমকি দেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা জানতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।


