বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে দলবদল নিয়ে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের বহু ছোট-বড় নেতা রাতারাতি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই প্রবণতা নিয়ে শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
এই আবহেই শনিবার দিল্লিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুর্নীতি বা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যে তৃণমূল নেতারা চুরি-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। তবে তৃণমূলের মধ্যেও কিছু ভাল মানুষ আছেন, যারা পরিস্থিতির চাপে মুখ খুলতে পারেননি অথবা মুখ খুলে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা বিজেপির দরজায় কড়া নাড়লে দল অবশ্যই ভেবে দেখবে। কিন্তু তাঁদেরও অপেক্ষা করতে হবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সম্ভাব্য দলবদলের জল্পনায়। তবে বিজেপি নেতৃত্ব আপাতত নিয়ন্ত্রিত অবস্থান নিতে চাইছে এবং নির্বিচারে অন্য দল থেকে নেতা নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
প্রসঙ্গত, ভোটের ফল ঘোষণার পরই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল, বিরোধী নেতাদের হেনস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসতেই বিজেপি কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দলের নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট নেতা বা কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি দল থেকেও বহিষ্কার করা হতে পারে।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের একাধিক প্রার্থীর মুখে বিজেপির প্রশংসা শোনা গিয়েছে। পাশাপাশি শাসকদলের কিছু নেতাও প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ফলে আগামী দিনে তৃণমূলের কোন কোন নেতা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বিজেপি শেষ পর্যন্ত কাদের জন্য দরজা খোলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


