সামনেই বকরি ইদ, আর তার আগেই গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে সরব হলো দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন। সম্প্রতি জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের প্রধান মৌলনা আরশাদ মাদানি স্পষ্ট দাবি তুলেছেন যে, গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিলে গোহত্যাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও আরএসএস আশ্রিতদের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হিংসা এবং দলিত-সংখ্যালঘুদের ওপর চলা নৃশংস গণপিটুনির মতো ঘটনা চিরতরে বন্ধ হবে। একই সঙ্গে মুখে গোরক্ষার বুলি আউড়েও কেন মোদী সরকার এখনও গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিচ্ছে না, সেই বিষয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মাদানির এই যুক্তিসঙ্গত দাবিকে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠনগুলি জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুসলিম সমাজের এই অবস্থান তথাকথিত গোরক্ষার নামে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করা বিজেপি শিবিরের আসল চেহারাটা আম জনতার সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মৌলনা শাহাবুদ্দিন রাজভী এই দাবিকে সমর্থন করে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি নিয়ে সমস্ত মুসলিম সংগঠনের মধ্যে এক বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলা হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে খুব শীঘ্রই দিল্লিতে একটি যৌথ বৈঠক ডেকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠানো হবে। তাঁর মতে, গোরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিলে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যার ফলে গোরক্ষার নামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির তোলাবাজি ও আইন হাতে তুলে নেওয়ার স্বৈরাচারী প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া কুরেশি জামাতের সভাপতি সিরাজ কুরেশিও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তাঁদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসলেও কেন্দ্রের কর্পোরেট-বান্ধব ও বিভাজনের রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকা বিজেপি সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
এই বিষয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারের চরম দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মৌলনা ইয়াসুব আব্বাস। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপি শাসিত উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে এবং গোয়ায় গোহত্যা ও গোমাংস বিক্রিতে কোনো বাধা নেই, অথচ হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে স্রেফ সন্দেহের বশে দলিত ও মুসলিমদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে—শাসক দলের এই দ্বিচারিতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের কার্যনির্বাহী সদস্য মৌলনা খালিদ রশীদ ফারাঙ্গি মাহালিও জানিয়েছেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়েই গোরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা উচিত এবং গোটা দেশে গোহত্যা নিয়ে একটি অভিন্ন ও স্বচ্ছ আইন থাকা দরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, গোরু নিয়ে সস্তা আবেগ তৈরি করে যারা প্রতিনিয়ত দেশে মেরুকরণের রাজনীতি কায়েম করে রাখছে, মুসলিম সংগঠনগুলির এই আইনি ও যৌক্তিক দাবি আসলে সেই স্বৈরাচারী ও বিভেদকামী বিজেপি সরকারের গালে এক বড়সড় আঘাত।


