সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। খাতার প্রতিলিপি ভুল পাওয়ার অভিযোগ তুলতেই ওই ছাত্রকে নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তাঁকে ‘পাকিস্তানি’ বলেও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমে ট্রোল সংস্কৃতি ও অনলাইন হেনস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে ওই ছাত্র এ বছর সিবিএসই বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছেন। সম্প্রতি বোর্ডের তরফে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্রতিলিপি দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই সময় বহু পড়ুয়া নিজেদের সমস্যার কথা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরছিলেন। সেই তালিকাতেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান বেদান্ত।তাঁর দাবি ছিল, বোর্ডের পক্ষ থেকে যে খাতার কপি তাঁকে পাঠানো হয়েছে, সেটি তাঁর নিজের নয়। ভুল উত্তরপত্রের প্রতিলিপি তাঁর হাতে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে কটূক্তি শুরু হয়। অনেকে তাঁর বক্তব্যকে ভুয়ো বলে দাবি করেন। এমনকি তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় খুব দ্রুত। অভিযোগ জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিবিএসই-র তরফে বেদান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে বোর্ড সঠিক উত্তরপত্রের প্রতিলিপি তাঁর ই-মেলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর বেদান্ত নিজেও সমাজমাধ্যমে জানান যে সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং তিনি সঠিক খাতা পেয়েছেন।কিন্তু ততক্ষণে মানসিক চাপে পড়েছেন ওই ছাত্র ও তাঁর পরিবার। পরে বেদান্তের দাদা সিদ্ধান্ত শ্রীবাস্তব সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে দুই ভাইয়ের একটি সাধারণ মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়ে তিনি লেখেন, এত বিতর্ক ও পরিশ্রমের পর তাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছেন। পাশাপাশি কটাক্ষের জবাব দিয়ে জানান, তাঁরা ভারতীয় এবং অকারণে তাঁদের নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে।এই ঘটনার পর শিক্ষামহলের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক শিক্ষিকার মতে, এখন মানুষ খুব দ্রুত কাউকে বিচার করে ফেলছেন। কোনও অভিযোগ সামনে এলেই তথ্য যাচাই না করেই আক্রমণ শুরু হয়ে যাচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব পড়ছে।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধিকর্তা এবং আইআইটি খড়গপুরের অতিথি অধ্যাপক অম্লান চক্রবর্তী বলেন, সমাজমাধ্যম এখন অনেক সময় শক্তি দেখানোর জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে যাচাই না করেই মন্তব্য করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।শুধু বেদান্ত নন, উত্তরপত্র সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু অভিযোগও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। যদিও সিবিএসই জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, ডিজিটাল যুগে একটি সাধারণ অভিযোগও কীভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হতে পারে।
Popular Categories


