দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী এলাকায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল শোকে। পরিবারের সঙ্গে উৎসবের সময় কাটানোর মধ্যেই প্রাণ হারাতে হল ২৬ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবককে। সিগারেটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তুচ্ছ বিবাদ শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ আকার নেয় বলে অভিযোগ।
মৃত যুবকের নাম আরবাজ। তিনি স্থানীয় একটি গয়নার দোকানে কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে নিজের বাড়ির কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তখন কয়েকজন যুবক তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ ঝগড়া বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, ওই যুবকেরা আরবাজের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরপর একাধিক আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। তদন্ত শুরু করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হয় এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর তিনজন কিশোরকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আরবাজের উপর হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। তাঁর ভাই রিজওয়ানের দাবি, কয়েকজন মিলে তাঁকে ঘিরে ফেলে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি করে। পরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালানো হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনায় একাধিক নাবালক এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।
আরেক ভাই তৌফিক জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আরবাজ তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে কয়েকজন যুবক তাঁকে ঘিরে রেখেছে। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলা শুরু হয়ে যায়। ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামান্য বিষয় নিয়ে তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা হিংসাত্মক প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


