বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের এক মাসের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। দলের একাংশের বিধায়কদের সক্রিয়তা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির জেরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে যে, প্রাক্তন শাসকদলের ভিতরে কি বড়সড় বিভাজন তৈরি হতে চলেছে।
সম্প্রতি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, দলের তরফে জমা দেওয়া কিছু নথিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর আসল নয়। এই অভিযোগ নিয়ে দুই তৃণমূল বিধায়ক লিখিতভাবে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তও শুরু হয়।
তদন্তে কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা স্বাক্ষর তাঁদের নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং তদন্তের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
এর মধ্যেই অভিযোগকারী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের পর তাঁরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন। এরপরই একাধিক অসন্তুষ্ট বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকের খবর সামনে আসে।
সূত্রের দাবি, বেশ কয়েকজন বিধায়ক নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আলাদা গোষ্ঠী গঠনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। এমনকি বিধানসভায় পৃথকভাবে বসার আবেদন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
কলকাতার একটি হোটেল এবং পরে এমএলএ হস্টেলে বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জেলার বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। যদিও বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি।
অন্যদিকে, স্বাক্ষর বিতর্কের তদন্তে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজিরার নোটিস দিয়েছে সিআইডি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হলেও তদন্তকারী সংস্থা নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ভাঙার জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তবে কয়েকজন নেতা চলে গেলেও সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


