রাজ্য রাজনীতিতে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি, ঠিক সেই সময় বিজেপির অন্দরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে গ্রেফতার হলেন দলের এক কর্মী। বীরভূমের নলহাটির বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী সুবোধ কুমার সাউ সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা এবং দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।
ভিডিও বার্তায় সুবোধ কুমার সাউ দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দুই বিজেপি নেতা পাথর শিল্পকে কেন্দ্র করে তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা তোলা হত এবং এই বিষয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। এমনকি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও তদন্তের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। ভিডিওতে তিনি বলেন, “ধ্রুব সাহা ও উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় অনুব্রত মণ্ডলের থেকেও খারাপ। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।”
শুধু অভিযোগই নয়, ভিডিওর শেষে নিজের গায়ে থাকা বিজেপির প্রতীকচিহ্নযুক্ত গেরুয়া গেঞ্জি ছিঁড়ে দলত্যাগের কথাও ঘোষণা করেন সুবোধ। তাঁর দাবি, “যে দলে সত্য কথা বলার জায়গা নেই, সেই দলে আমি থাকতে পারব না।”
রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন আরও বাড়ে যখন ভিডিওটি তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও শেয়ার করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সুবোধ কুমার সাউকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় বিজেপি কর্মী সজল কুমার রায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার তাঁকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১১ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারের পর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সুবোধ কুমার সাউ দাবি করেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার কারণেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি ওদের দুর্নীতির কথা বলেছি বলেই আমাকে চুপ করানোর চেষ্টা চলছে। দিল্লিতেও অভিযোগ করেছি। এখন আমার মুখ বন্ধ করতে চাইছে।”
অন্যদিকে, বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তি আমাদের দলের কেউ নন। তিনি কেন এসব বলছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এই ধরনের মন্তব্যকে আমরা গুরুত্ব দিই না। বিজেপি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত দল।”
উল্লেখ্য, সুবোধ কুমার সাউ দীর্ঘদিন ধরেই বীরভূমে বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে হিন্দুত্বের প্রচার কিংবা তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সাইকেলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বীরভূম থেকে নবান্ন পর্যন্ত সাইকেল যাত্রাও করেছিলেন।
তবে এবার নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই প্রকাশ্যে সরব হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বিজেপি সরকারের শাসন শুরুর পরপরই দলের অন্দরে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসায় বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ও চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনিক বা দলীয় স্তরে কোনও তদন্তের ঘোষণা এখনও পর্যন্ত হয়নি।


