কয়েকদিন আগে ভালো তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা খোলার কথা বলেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপির রাজ্য সভাপতির সেই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়েছিল। ভালো তৃণমূল কারা, সেই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই অন্য বার্তা দিলেন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল। তিনি স্পষ্ট জানান, কাউকে বিজেপিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে যেন কোনও বাছবিচার না করা হয়। অনেকেই নিজের স্বার্থে বা কিছু পাওয়ার আশায় বিজেপিতে আসতে পারেন, কিন্তু তাঁকে দলে নিয়ে যোগ্য কার্যকর্তা বা আদর্শ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বিজেপির সংগঠনের।
রবিবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই হাই-ভোল্টেজ দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব:
- শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী)
- শমীক ভট্টাচার্য (বঙ্গ বিজেপি সভাপতি)
- সুনীল বনশল (সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক)
এই অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনীল বনশল দলের কর্মী ও কার্যকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, বিজেপিতে সব ধরনের মানুষের আসা দরকার। একে নেওয়া উচিত আর ওকে নেওয়া উচিত নয়, এমন বার্তা দেওয়া একদমই ঠিক নয়। বিজেপির সংগঠনকে এতটা মজবুত হতে হবে যাতে অন্য দল থেকে যিনিই আসুন না কেন, তিনি যেন বিজেপির ভাবধারায় মিশে গিয়ে কাজ করতে পারেন।
সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বনশল জানান, বিজেপি কোনও নির্দিষ্ট কিছু লোকের সংগঠন নয়, বরং ৮০ শতাংশ হিন্দুর সংগঠন করার লক্ষ্য নিয়েই দল কাজ করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন হিন্দুও সংগঠনের বাইরে আছেন, তাঁকে যুক্ত করাই দলের কাজ। এই নীতিতে হেঁটেই আজ বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১৮ কোটিতে পৌঁছেছে। তাই অন্য কারও চিন্তাভাবনা যেমনই হোক, দলে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে যোগ্য আদর্শবাদী কর্মী বানানোই বিজেপির আসল দায়িত্ব।


