মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় এক মুসলিম ইমামকে ঘিরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, ইয়াওয়াল তালুকার মারুল গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ কাসম পেশায় একজন ইমাম। তিনি পাশের পারোলা গ্রামে নামাজ পড়াতে করতে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় পথেই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ। ইমামের দাবি, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে জোর করে “জয় শ্রী রাম” স্লোগান দিতে বাধ্য করেন।অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরে সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এই ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।ঘটনার খবর সামনে আসার পর অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর নেতারা বিষয়টি নিয়ে সরব হন। দলের জাতীয় মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান প্রকাশ্যে ঘটনার নিন্দা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে এভাবে হেনস্তা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।ওয়ারিস পাঠান বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন বলে জানা গেছে। তাঁর হস্তক্ষেপের পর পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা ভাইরাল ভিডিওটিও খতিয়ে দেখছেন।এদিকে ঘটনার পর আরও একটি ভিডিও সামনে এসেছে। সেখানে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত লাগার জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। মনে করা হচ্ছে, জনমতের চাপ এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হওয়ার পরেই ওই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
Popular Categories


