উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুনে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতার বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল, সমাজকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।ঘটনার সূত্রপাত ১৩ জুন। ওইদিন দেহরাদুনের বৈরাগিওয়ালা এলাকায় সরকারি টিউবওয়েলের সেচের জল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ বাধে। সেই বিবাদ পরে সংঘর্ষে পরিণত হয়। ঘটনায় বিজেপির ওবিসি মোর্চার নেতা বিনোদ কুমার কাশ্যপের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।কাশ্যপের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন বিক্ষোভ শুরু করে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই বাড়িটি অবৈধ নির্মাণ বলে দাবি করে ভেঙে ফেলা হয়।এই পরিস্থিতির মধ্যেই হিন্দু রক্ষা দলের সভাপতি ললিত শর্মার একটি বক্তব্য সামনে আসে, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, ” জন্মের আগে মুসলিম শিশুদের হত্যা করে দেওয়া উচিত।” এমন মন্তব্য অনেকের মতে সরাসরি হিংসাকে উসকে দেওয়ার সামিল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, একজন হিন্দু নিহত হলে তার বদলে চারজন মুসলিমকে হত্যা করা উচিত। এছাড়াও মুসলিম মহিলাদের এবং গর্ভস্থ সন্তানদের নিয়েও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।একই সভায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের নেতা অমন স্বেদিয়াও বক্তব্য রাখেন। তিনি “রক্তের বদলে রক্ত” নেওয়ার কথা বলেন এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। সভায় মুসলিমদের উদ্দেশে কটূক্তিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এই বক্তব্যগুলির ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। সমাজকর্মী, মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা দাবি করেন, এই ধরনের বক্তব্য একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায় এবং হিংসার পরিবেশ তৈরি করে। তাঁদের মতে, এটি ঘৃণাত্মক ভাষণ এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতি এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, দেশে ঘৃণার রাজনীতি ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ক্রমাগত প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।এদিকে সামাজিক মাধ্যমেও বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেওয়ার পরও কেন এখনও কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যগুলির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়নি। তবে তদন্ত ও জবাবদিহির দাবিতে চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
যোগী মডেলের প্রশংসা! মুসলিম শিশুদের জন্মের আগেই হত্যা করে দেওয়া উচিত: হিন্দুত্ববাদী নেতা ললিত শর্মা
Popular Categories


