রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে নতুন মোড় নিল তদন্ত। এই বিষয়ে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা না হলেও সূত্রের দাবি, সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এবং সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগামী দিনে বড় পদক্ষেপের পথ খুলে দিতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বরাষ্ট্র) সঞ্জয় প্রসাদের হাতে তদন্তের প্রথম রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন। তবে রিপোর্টে কী রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। তদন্ত এখনও চলমান থাকায় বিষয়টিকে গোপন রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রিপোর্টে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্ব আরও শক্তিশালী করতে একজন অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিককে প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর।
এছাড়া গত কয়েক বছরে মন্দিরে জমা হওয়া সমস্ত দান ও আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সংক্রান্ত তথ্য আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সূত্রের খবর, প্রায় ১৫০ পাতার এই প্রাথমিক রিপোর্টে মন্দির ট্রাস্টের কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষ নেতা এবং ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী চম্পত রাইয়ের নামও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর গত ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তদন্তের জন্য সিট গঠন করেছিল। সেই সময় ট্রাস্টের পক্ষ থেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। এরপর তদন্তকারীরা নথিপত্র খতিয়ে দেখা, সাক্ষ্য সংগ্রহ এবং একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ট্রাস্টের সদস্য, কর্মী, ব্যাংক-সংক্রান্ত ব্যক্তি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নাম রয়েছে। তদন্তকারী দল লক্ষ্য করেছে, কয়েকজনের বক্তব্যের সঙ্গে ট্রাস্টের নথিভুক্ত তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে।
বিজয় বিশ্বাস পন্থ জানিয়েছেন, এটি কেবল প্রাথমিক রিপোর্ট। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে তদন্তকারীরা আবার অযোধ্যা গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ সরকার খুব শীঘ্রই এই রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেও পাঠাবে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ট্রাস্টের কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


