বারাণসীর গঙ্গার ঘাটে একটি নৌকায় মাংস রান্না এবং মদ্যপানের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের শাসক দল বিজেপি। কারণ, যে নৌকাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটির সঙ্গে দলের এক স্থানীয় নেতার নাম জড়িয়ে যাওয়ার দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক মিনিটের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, গঙ্গার বুকে ভাসমান একটি নৌকায় কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হয়েছেন। সেখানে মুরগির মাংস রান্না করা হচ্ছে এবং পাশাপাশি মদ্যপানেরও আয়োজন রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নৌকাটি বিজেপির এক কাউন্সিলারের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। ওই নেতা বর্তমানে দলের একটি সাংগঠনিক পদেও রয়েছেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। তদন্ত শুরু করে ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি যে নৌকাটিতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ, সেটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নতুন নাকি পুরনো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, ঘটনাটি কিছুদিন আগের হতে পারে। তবে ভিডিওতে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দশাশ্বমেধ থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল অঞ্জন ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান পাঁচজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে নৌকাটিও নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে যে বিজেপি কাউন্সিলারের নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাঁকে ভিডিওতে সরাসরি দেখা যায়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, নৌকাটি ওই নেতার বা তাঁর পরিবারের কারও হতে পারে, কিন্তু ভিডিওর ফুটেজে তাঁর উপস্থিতির কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক মাস আগেও বারাণসীর একটি ঘাট এলাকায় নৌকায় খাবারের আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্থানীয় এক বিজেপি নেতা। এরপর কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। ফলে বর্তমান ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর উৎস, ঘটনার সময় এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


