পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সোমবার রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এই বিলগুলির মাধ্যমে ওবিসি সংরক্ষণ আইন এবং পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধনের ফলে ওবিসি তালিকা থেকে ৭৭টি মুসলিম সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে।বিধানসভার ২৯৪ সদস্যের মধ্যে ১৮৬ জন বিধায়ক বিলের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ছয়জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন। এছাড়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ বিধায়ক ভোটাভুটির আগে কক্ষ ত্যাগ করেন।রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বিধানসভায় বিলটি পেশ করেন। তিনি বলেন, কলকাতা হাই কোর্টের ২০২৪ সালের মে মাসের নির্দেশ মেনেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের সরকার যথাযথ সমীক্ষা না করেই বহু সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরনো তালিকায় মোট ১১৩টি উপগোষ্ঠী ছিল, যার মধ্যে ৭৭টি মুসলিম এবং ৩৬টি অমুসলিম সম্প্রদায় ছিল।তিনি জানান, নতুন তালিকায় শুধুমাত্র সেই ৬৬টি সম্প্রদায়কে রাখা হয়েছে যাদের ক্ষেত্রে সমীক্ষা ও প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সব মুসলিম সম্প্রদায়কে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। জোলা, ফকির, পাহাড়িয়া মুসলিম, হাজ্জাম এবং চৌদুলি-সহ কয়েকটি মুসলিম সম্প্রদায় এখনও ওবিসি তালিকায় রয়েছে।মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন নতুন করে সমীক্ষা চালাবে এবং কোন কোন সম্প্রদায় ওবিসি মর্যাদার যোগ্য তা নির্ধারণ করবে। তাঁর অভিযোগ, অতীতে ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র ইস্যুর ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। নতুন আইন সেই প্রবণতা রোধ করতেও সাহায্য করবে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার ১৯৯৩ সালের মূল ওবিসি তালিকাকে পুনরায় কার্যকর করেছে।অন্যদিকে, এই বিল নিয়ে বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তি রয়েছে। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি অভিযোগ করেন, এই সিদ্ধান্তে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা বহু মুসলিম পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁদের মতে, হাই কোর্ট তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, কিন্তু সরকার চাইলে সমীক্ষা চালিয়ে বর্তমান সুবিধাভোগীদের অধিকার বজায় রাখতে পারত।সমালোচকদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে ওবিসি সুবিধা পাওয়া বহু মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বাংলায় নতুন OBC আইন পাস, তালিকা থেকে বাদ ৭৭ মুসলিম সম্প্রদায়! ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ
Popular Categories


