গুজরাটের রাজকোটে সম্প্রতি চালানো একটি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, অভিযানের সময় খাবার, পানীয় ও অন্যান্য ব্যবস্থার জন্য যে পরিমাণ অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙার অভিযানে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।জানা গিয়েছে, রাজকোটের জঙ্গলেশ্বর এলাকায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে দু’দিন ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানের মোট খরচ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে খাবার ও পানীয় সংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাব।পুরসভার নথি অনুযায়ী, অভিযানে যুক্ত কর্মী, আধিকারিক ও নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য বিপুল পরিমাণ চা, খাবারের প্যাকেট এবং বিভিন্ন পানীয় সরবরাহ করা হয়েছিল। হিসাব বলছে, কয়েক হাজার খাবারের প্যাকেট এবং হাজার হাজার বোতল শরবতের জন্য বড় অঙ্কের বিল জমা পড়েছে। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক চায়ের কাপ সরবরাহের হিসাবও নথিভুক্ত হয়েছে।এই সমস্ত খরচ মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার বেশি বিল জমা পড়লেও সেই বিল এখনও অনুমোদন পায়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুরসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। শুধু খাবার নয়, পানীয় জল, অস্থায়ী মণ্ডপ এবং অন্যান্য পরিষেবার খরচ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, অভিযানের ভিডিও নথিভুক্ত করার জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি বুলডোজার, জেসিবি, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের খরচও উল্লেখযোগ্য বলে জানা গিয়েছে।এই প্রসঙ্গে পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের খরচও সংশ্লিষ্ট বিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের এক কাউন্সিলর অভিযোগ করেছেন, যেসব পরিবার উচ্ছেদের ফলে মাথার উপর ছাদ হারিয়েছে, সেই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত খরচ করে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং যদি কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজকোটের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের টাকায় পরিচালিত প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Popular Categories


