গুজরাটের কচ্ছ জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ধর্মীয় স্থাপনা, দোকানপাট এবং বসতবাড়ি ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের দাবি, বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কচ্ছ জেলার গান্ধীধাম তালুকার জুনা কাণ্ডলা এলাকার একটি পুরনো মসজিদ রবিবার রাতে ভেঙে ফেলা হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, বহু বছর ধরে ওই মসজিদটি সেখানে ছিল এবং এটি রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের নথিভুক্ত সম্পত্তি। কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, উচ্ছেদের আগে তাঁদের কোনও লিখিত নোটিস দেওয়া হয়নি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মহম্মদ সমর জানান, ভাঙার খবর পেয়ে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে মোতায়েন থাকা পুলিশ তাঁদের সেখানে যেতে দেয়নি বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করে। তারা স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদ কমিটির সদস্য এবং অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংগঠনের দাবি, কচ্ছ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট প্রায় ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ, মাজার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কিছু বসতবাড়ি রয়েছে। অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পত্তির মালিকদের আগে থেকে কোনও স্পষ্ট নোটিস দেওয়া হয়নি।
এদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেআইনি নির্মাণ ও দখলদারির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আইন মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নানা বর্ণোরা গ্রামেও সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে একাধিক বাড়ি ও দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিছু বাসিন্দার দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত না হলেও তাঁরা প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার কর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে আইনি প্রক্রিয়া, শুনানির সুযোগ এবং পর্যাপ্ত নোটিস দেওয়া জরুরি। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এখন কচ্ছ জেলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।


