পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির অন্দরের মতবিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মী ও নেতাদের মধ্যে যে অসন্তোষ জমছিল, মঙ্গলবার রাতে মেমারিতে তারই বিস্ফোরণ দেখা যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিধায়ক মানব গুহের কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বচসা ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।দলীয় সূত্রের দাবি, মেমারিতে বর্তমানে বিজেপির একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে আলাদা আলাদা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রথমে কথার লড়াই শুরু হলেও পরে তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে বিধায়কের অফিসের সামনে দুই পক্ষের সমর্থকেরা জড়ো হন। সেখানে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং এক সময় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।বিজেপি নেতা ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য বলেন, দলের আদর্শকে সামনে রেখেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কাজ করে আসছেন। যখন এলাকায় দলের অস্তিত্ব খুবই সীমিত ছিল, তখনও তাঁরা দলের পতাকা নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছেছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলের মধ্যে থেকে বেআইনি অর্থ আদায়ের মতো কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।দলীয় মহলের একাংশের মতে, শুধু মেমারি নয়, কালনা, জামালপুর এবং বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকাতেও একই ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বহু পুরনো কর্মী ও নেতা মনে করছেন, যাঁরা কঠিন সময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে নতুন করে সক্রিয় হওয়া কিছু নেতা সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন বলে অভিযোগ উঠছে।এক প্রবীণ বিজেপি নেতা বলেন, দলের ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে রাজ্য নেতৃত্ব পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।দলীয় সূত্রে খবর, আগামী দিনে জেলার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বুথ স্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের কাজ হতে পারে। ভোটের সময় যাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের সরিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কর্মীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিছুটা হলেও কমতে পারে।
Popular Categories


