কলকাতার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে মিড-ডে মিল তৈরির দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগে পড়েছেন বহু মিড-ডে মিল কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আশঙ্কা, তাঁদের রোজগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, প্রথমে কলকাতার স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকন মিড-ডে মিল পরিচালনা করবে। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্য জেলাতেও একই ব্যবস্থা চালু হতে পারে।
এই ঘোষণার পর থেকেই কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। শুধু কলকাতাতেই প্রায় ৩,৬৬৯ জন অনুমোদিত মিড-ডে মিল রাঁধুনি রয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি বহু সহযোগীও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। গোটা রাজ্যে এই সংখ্যাটা প্রায় ২.৩ লক্ষ বলে দাবি সংগঠনের।
চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট আশ্বাস না মেলায় প্রতিবাদের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মীরা। সিটু-সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন জানিয়েছে, আগামী ১০ জুলাই কলকাতায় বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে।
সংগঠনের দাবি, স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে রাঁধুনি নিয়োগের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক অতিরিক্ত কর্মীও কাজ করেন, যাঁদের জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই। তাঁদের পারিশ্রমিকও ভাগ করে দেওয়া হয়।
কর্মীদের অভিযোগ, একদিকে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলেও, অন্যদিকে ইসকনের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের চাকরি থাকবে কি না, সে বিষয়ে সরকার কোনও পরিষ্কার অবস্থান জানায়নি। তাই চাকরি ও ন্যায্য মজুরির দাবিতেই আন্দোলনের পথে নামছেন তাঁরা।


