দেশের ছোট শহর ও প্রত্যন্ত এলাকাকে বিমান পরিষেবার আওতায় আনতে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্প চালু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে বিমান যাত্রার সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। কিন্তু সেই প্রকল্পের আওতায় তৈরি বা উন্নত করা একাধিক বিমানবন্দরে এখন নিয়মিত যাত্রীবাহী উড়ান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এই পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার এবং সিকিমের পাকিয়ং বিমানবন্দর বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই দুই বিমানবন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও বর্তমানে সেখানে নিয়মিত বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা চালু নেই।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উড়ান প্রকল্পের অধীনে উন্নয়ন হওয়া দেশের প্রায় ১৫টি বিমানবন্দরে আপাতত যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোচবিহার বিমানবন্দর এবং সিকিমের পাকিয়ং বিমানবন্দরও। বিভিন্ন প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কোচবিহার বিমানবন্দরকে নতুন করে গড়ে তুলতে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখানে বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা শুরু হয়। স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী মহল এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তখন ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছিল। কোচবিহার থেকে কলকাতার বিমান যোগাযোগ শুরু হওয়ায় সময়ও অনেক কমে গিয়েছিল।কিন্তু সেই আশার স্থায়িত্ব বেশি দিন হয়নি। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সেখানে নিয়মিত যাত্রীবাহী উড়ান বন্ধ রয়েছে। ফলে আবারও ভরসা করতে হচ্ছে সড়ক ও রেলপথের উপর। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিমান পরিষেবা চালু থাকলে পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতি আসত।অন্যদিকে, সিকিমের পাকিয়ং বিমানবন্দরও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। পাহাড়ি আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অতীতেও বহুবার বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। যাত্রী সংখ্যা কম হওয়া এবং বিমান সংস্থাগুলির সীমিত আগ্রহও পরিষেবা সচল রাখতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য বলছে, অনেক ক্ষেত্রে ভর্তুকির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়া, বিমানের অভাব, পরিচালনাগত সমস্যা এবং বিমান সংস্থার পরিষেবা প্রত্যাহারের মতো কারণগুলিও পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পিছনে দায়ী।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিমানবন্দর তৈরি করলেই হবে না, সেখানে নিয়মিত যাত্রী, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক চাহিদা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। না হলে দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের প্রকল্প আর্থিকভাবে টেকসই হয়ে ওঠা কঠিন।তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, উড়ান প্রকল্প চালুর পর দেশে কার্যকর বিমানবন্দরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে কার্যকর বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল ৭৪, বর্তমানে তা প্রায় ১৬৫-এ পৌঁছেছে। তবুও কোচবিহার ও সিকিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এখন সকলের নজর, কবে ফের এই দুই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত যাত্রীবাহী উড়ান চালু হয়।
কোচবিহার-সিকিমসহ ১৫টি বিমানবন্দরে বন্ধ যাত্রী পরিষেবা, প্রশ্নের মুখে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের ভবিষ্যৎ
Popular Categories


