পশ্চিম বর্ধমানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালি ও কয়লার ব্যবসা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের একাংশের আশা ছিল, এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দামোদর ও অজয় নদী থেকে বছরের পর বছর ধরে নিয়ম ভেঙে বালি তোলা হয়েছে। একইভাবে কুলটি, জামুড়িয়া, অণ্ডাল-সহ একাধিক অঞ্চলে বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগও রয়েছে। শুধু তাই নয়, শিল্পাঞ্চলগুলিতে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায়, শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা এবং নানা ধরনের অনিয়মের কথাও বারবার সামনে এসেছে।ক্ষমতার পালাবদলের পরে এই সমস্ত অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপের আশা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ উঠছে, অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছেন।স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, কিছু এলাকায় অবৈধ বালি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নতুন গোষ্ঠী তৈরি হওয়ার চেষ্টা চলছে। বালিভর্তি ট্রাক আটকানো, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব কর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ থাকলে আইন মেনে প্রশাসনের কাছে জানাতে হবে, নিজেরা আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দলীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠতা থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ দলের কাছেও এসেছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।পাণ্ডবেশ্বর ও কাঁকসা অঞ্চলের নাম বিশেষভাবে উঠে আসছে বালি ব্যবসা নিয়ে বিতর্কে। স্থানীয়দের দাবি, সরকার বদলের পরও ওইসব এলাকায় বেআইনি কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং কিছু জায়গায় নতুন করে সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্যদিকে, কয়েকজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে সম্পত্তি বৃদ্ধির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিরোধীদের দাবি, অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল, তাঁদের অনেকেই এখনও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কেন অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাফল্য মিলছে না।এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দাদের একাংশ এখন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব আগামী দিনে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
Popular Categories


