উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগকারী এক যুবতী থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখা হয়েছিল। পরে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তাঁর উপর বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ জুলাই চোপড়া থানায় ওই যুবতী একটি অভিযোগ জমা দেন। তাঁর দাবি, ২০১৬ সাল থেকে ওই রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যুবতীর অভিযোগ, বারবার বিয়ের কথা বলে তাঁকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল। সেই ভরসার উপর ভিত্তি করেই দীর্ঘদিন সম্পর্ক চলেছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সেই সময় তাঁকে নানা ভাবে চাপ দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। যুবতীর দাবি, তাঁর সম্মতি ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় তিনি গভীর মানসিক আঘাত পেয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
এখানেই অভিযোগের শেষ নয়। যুবতীর দাবি, চলতি মাসের শুরুতে তাঁকে শিলিগুড়ির একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিজেপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।


