শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলে সতর্ক করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্যতম প্রধান মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার যদি আন্দোলনকারীদের মূল দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—মেনে না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আরও কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠতে পারে।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাঙ্কা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ইস্যু ঝুলে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর কথায়, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। মাসের পর মাস এভাবে চলতে পারে না। সরকার যত বেশি দেরি করবে, মানুষের ক্ষোভ তত বাড়বে। এখন সেই ক্ষোভের নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও চলে এসেছেন।”
শনিবার সকালে সমাজমাধ্যমেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রাঙ্কা। তিনি লেখেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবির সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। সরকার যদি তাতে রাজি না থাকে, তা হলে নতুন করে আলোচনার কোনও অর্থ নেই।”
ইতিমধ্যে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দু’দফা বৈঠক হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা জানিয়েছেন, শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই সরকারের প্রতি কার্যত কড়া বার্তা দিল সিজেপি নেতৃত্ব।
দলের পক্ষ থেকে সরকারের সামনে তিনটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছে—
- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
- আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা।
- নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ।
সিজেপির দাবি, শুক্রবারের বৈঠকে কেন্দ্র দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এখনও কোনও ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলেনি। জেপি নড্ডা জানিয়েছেন, সিজেপির দাবিগুলি নিয়ে সরকার আরও আলোচনা করবে এবং শনিবার ফের বৈঠকে বসবে।
এদিকে আন্দোলনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি ভিডিও বার্তায় নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর বক্তব্য, “আন্দোলন শুরুর ৪৫ দিন পরে প্রধানমন্ত্রী মুখ খুললেন। প্রশ্নফাঁসের প্রায় দু’মাস পর কেন সক্রিয় হল সরকার?” তাঁর দাবি, শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। এখন নজর শনিবারের বৈঠকের দিকে। কেন্দ্র শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান বদলায় কি না, তার উপরই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।


