কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দিল্লির যন্তরমন্তরে চলা ছাত্র-যুবদের আন্দোলন ধীরে ধীরে শেষের পথে। বহু বিক্ষোভকারী নিজেদের রাজ্যে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আন্দোলন শেষ হলেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে উত্তরপ্রদেশের এক স্বেচ্ছাসেবককে ঘিরে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা মহম্মদ জুনেইদ। আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি যন্তরমন্তরে উপস্থিত ছিলেন। নিজের উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগত খরচে আন্দোলনকারীদের জন্য পানীয় জল ও খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বহু ছাত্র-যুবকের কাছে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। অনেকেই তাঁকে স্নেহ করে ‘জুনেইদ ভাইয়া’ বলে ডাকতেন।
আন্দোলন শেষ হওয়ার পর জুনেইদ অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁর পরিবারকে পুলিশি সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছিল এবং তাঁকে আন্দোলন থেকে দূরে থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, যেমন আধার কার্ড, ব্যাংকের পাসবই-সহ বিভিন্ন কাগজপত্রও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জুনেইদের পাশে দাঁড়ায়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার উপর তারা নজর রাখছে। জুনেইদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি সাহায্যের ব্যবস্থাও করা হবে। দলের মতে, কোনও স্বেচ্ছাসেবককে তাঁর সামাজিক কাজের জন্য এভাবে সমস্যার মুখে পড়তে হওয়া উচিত নয়।
ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণও। তিনি অভিযোগগুলিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, যদি কোনও নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে সহযোগিতা করার জন্য বা মানবিক কারণে সাহায্য করার অপরাধে হেনস্তা করা হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ভালো বার্তা নয়। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তরপ্রদেশের মিরাট পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার বিনায়ক গোপাল ভোঁসলে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সব থানায় খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও জুনেইদ বা তাঁর পরিবারের কাউকে আটক করার কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।


