বিহারে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্দোলনের জেরে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর, অভিযোগ এবং শো-কজ নোটিসও প্রত্যাহার করা হবে। এই ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার রাতে বিহার সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার আগে পর্যন্ত নিট আন্দোলনকে ঘিরে যে সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হচ্ছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আর নেওয়া হবে না বলেও সরকার জানিয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ওই সময়সীমার মধ্যে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা যাঁদের নাম বিভিন্ন অভিযোগে রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। ইতিমধ্যেই যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার আগে থেকেই আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবিতে সরব ছিল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও প্রতিবাদী মঞ্চ। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা পটনায় পৌঁছে অভিযোগ করেন, বিহারের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে। তাঁর দাবি, অন্তত ৫০০ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মামলা না করার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা মানা হয়নি। এখনও বহু ছাত্রছাত্রী জেলে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই অভিযোগ তুলেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের দাবি ছিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এখনও গ্রেফতারি অভিযান চলছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে কঠোর ধারায় মামলা করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁদের অনেককেই এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি।
সোমবার সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সরকার যদি দ্রুত প্রতিশ্রুতি পালন না করে, তবে আবারও বড় আকারে আন্দোলন শুরু হবে। দিল্লির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্যে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবিও তোলে তারা। সংগঠনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ফের ধর্না ও বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হবে।


