নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন আপাতত স্থগিত থাকলেও নতুন করে তা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠকে যেসব আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকটাই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করেছে তারা।
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সিজেপি নেতৃত্ব জানায়, আন্দোলনের সময় যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁদের মুক্তি এবং দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি কেন্দ্র দিয়েছিল। পাশাপাশি লিখিতভাবে সেই সমঝোতা চূড়ান্ত করার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ চলছে বলে অভিযোগ সংগঠনের।
সিজেপির দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম-সহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও গ্রেফতারও করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে আবারও ধর্না ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সংগঠন।
প্রসঙ্গত, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে সিজেপির প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি সম্প্রতি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সরকার তাদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছে। এরপরই দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ধর্না তুলে নেওয়া হয়।
তবে সিজেপির বক্তব্য, আন্দোলন প্রত্যাহারের পরেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। সংগঠনের দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, কেন্দ্রকে দ্রুত লিখিত চুক্তি প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি যেসব পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ মানুষের কাছে ঘটনার ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণ পাঠানোর আবেদনও জানিয়েছে সংগঠন। এ জন্য একটি আলাদা ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, আন্দোলনকারীদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তার জন্য এক কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হবে। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া মানুষের আইনি অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেওয়া হবে।
এর আগে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তায় সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরই আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল। তাই এখনও ধরপাকড় চলতে থাকায় সংগঠন উদ্বিগ্ন।
একই সুরে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও সামাজিক মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন ফের শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাওও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, শুধু বিহারেই শত শত ছাত্রছাত্রীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের দেওয়া আশ্বাস এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে। তবে কেউ যদি আইন ভেঙে হিংসাত্মক কাজ করে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্র সোমবার সংসদে পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ পেশ করেছে। তবে বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে বিলটি নিয়ে আলোচনা এগোয়নি এবং লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। পরে বিহার সরকার জানায়, নিট আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া সকলকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিন সংসদে প্রথমবার উপস্থিত হন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বিজেপি ও এনডিএ-র সাংসদেরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে সংসদের বাইরে কংগ্রেসের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র বলেন, তিনি সব সময় মাঠে নেমে মানুষের সঙ্গে থেকেছেন এবং সংগ্রামের পথেই বিশ্বাস করেন।


