Saturday, October 31, 2026
30 C
Kolkata

পাঁচ বছরে দেশে কমেছে ১৭ হাজারের বেশি সরকারি স্কুল, সংসদে কেন্দ্রের তথ্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

দেশজুড়ে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সামনে আসতেই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশের ১৭ হাজারেরও বেশি সরকারি স্কুলের অস্তিত্ব হারিয়েছে বলে লোকসভায় জানানো হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে, সরকারি শিক্ষার বদলে কি ধীরে ধীরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আনন্দ ভাদুরিয়া সরকারি স্কুলের সংখ্যা নিয়ে লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন। তার জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য পেশ করেন। সেই হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ ২২ হাজার ৩৮৬। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ লক্ষ ৫ হাজার ২৪৫-এ। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে মোট ১৭ হাজার ১৪১টি সরকারি বিদ্যালয় কমে গিয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, একাধিক রাজ্যেই সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমেছে। অসমে এই সময়ে স্কুলের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৪৯০ থেকে কমে হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৫০। হরিয়ানায় ১৪ হাজার ৫৬২ থেকে নেমে হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৮। মধ্যপ্রদেশে ৯২ হাজার ৬৯৫ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ১৯৯। মহারাষ্ট্রে ৬৫ হাজার ৬৩৯ থেকে কমে হয়েছে ৬৪ হাজার ৫৭১। ওড়িশায় ৪৯ হাজার ৭২ থেকে কমে হয়েছে ৪৮ হাজার ৬০৩। ত্রিপুরায় ৪ হাজার ২৬২টি সরকারি স্কুল কমে হয়েছে ৪ হাজার ১৪৪টি। উত্তরাখণ্ডেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সেখানে ১৬ হাজার ৪৮৪টি সরকারি বিদ্যালয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮৩৪-এ।

পশ্চিমবঙ্গেও সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমেছে। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে রাজ্যে সরকারি স্কুল ছিল ৮৩ হাজার ৩০২টি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৮১ হাজার ৫৯১। তবে এই সময়কালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারই ক্ষমতায় ছিল।

সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমার কারণ নিয়ে সংসদে আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন সরকারি স্কুল স্থাপন, পুরনো স্কুল বন্ধ করা বা একাধিক বিদ্যালয়কে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও তাদের প্রশাসনের উপরেই থাকে। এই বিষয়ে কেন্দ্র সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয় না।

সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমে যাওয়ার এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, ছাত্রসংখ্যা, শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, সরকারি শিক্ষার প্রসারে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফলে এই তথ্যকে ঘিরে আগামী দিনে শিক্ষা নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Hot this week

বিজয়া সম্মেলনীর পরেই টিটাগড়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, গুরুতর জখম দলের আইটি শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মী!

উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা...

জঙ্গিগোষ্ঠী উলফার প্রশংসা করে বিতর্কে অসমের মন্ত্রী, তাঁর মন্তব্যের সাফাই দিতে এগিয়ে এলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা!

অসমে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী উলফার প্রশংসা করে বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যের...

Topics

আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী, আন্দোলনকারী কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা

আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব...

Related Articles

Popular Categories