বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তির একসঙ্গে লড়াই করা উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের জবাবে এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বামপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই আরএসএসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে এবং যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান বারবার বদলায়, তাঁদের সঙ্গে যৌথ লড়াইয়ের প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা যন্তরমন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর দিল্লি পুলিশ ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে একটি পুরনো মামলায় পদক্ষেপ করার চেষ্টা করে। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিপিএম, এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআইয়ের কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেন। তাঁদের সঙ্গে দলের কয়েকজন সাংসদও ছিলেন। তাঁদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ঐশী ঘোষকে আটক করার চেষ্টা থেকে সরে আসে।
এই ঘটনার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতের অমিল থাকলেও কোনও আন্দোলন দমন করার জন্য পুরনো মামলাকে সামনে এনে ব্যবস্থা নেওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী দলগুলির মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন।
তবে এই আহ্বানকে গুরুত্ব দিতে নারাজ এসএফআই নেত্রী। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বামপন্থীরা সবসময়ই আরএসএসের বিরোধিতা করেছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের সময় যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যায়, তাঁদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, ঐশী ঘোষকে আটক করার চেষ্টার ঘটনায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে এসএফআইয়ের জাতীয় নেতৃত্ব। সংগঠনের অভিযোগ, যন্তরমন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতাদের চাপে ফেলতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, আন্দোলনের কণ্ঠস্বর দমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পুরনো মামলাকে সামনে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা পুলিশের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের দায়িত্ব এবং তারা সেই দায়িত্বই পালন করেছে। ফলে ঐশী ঘোষকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ এবং বিরোধী শিবিরের ঐক্য নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


