দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় এক অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের তির বিজেপির দুই স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার জন্য কষ্ট করে জমানো ১০ হাজার টাকা তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার অভিযোগ ইতিমধ্যেই নামখানা থানায় জমা পড়েছে।
অভিযোগকারী মিনা দাস জানান, তাঁর স্বামী নিমাই দাস দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছেন। নিয়মিত কেমোথেরাপি চলছে। সংসারের একমাত্র ভরসা তিনি নিজেই। ফুটপাতে সবজি বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি স্বামীর চিকিৎসার খরচ মেটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই সঞ্চিত টাকাই ভয় দেখিয়ে নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের দাবি, নিমাই দাসের ছেলের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর মেয়ের বিয়ের কথা হয়েছিল। কিন্তু মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় পুলিশ বিয়ে বন্ধ করে দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারকে থানায় ডাকা হয়। সেই সময় দুই বিজেপি নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে থানার ওসিকে টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি টাকা না দিলে ছেলেকে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, সেই আতঙ্কে অনেক কষ্টে ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাঁদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন মিনা দাস।
এই ঘটনার জেরে পরিবারটি আর্থিকভাবে বড় সমস্যার মুখে পড়েছে। মিনা দাসের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পর থেকে স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়মিত করাতে না পারায় তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনাটি সামনে আসতেই বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের কনভেনর তথা নামখানার বিজেপি নেতা অরুণকুমার জানা বলেন, অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে দল কোনওভাবেই তা সমর্থন করে না। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের নজরে আনা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিজেপি নেতা বিপ্লব নায়েক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।


